মেনু নির্বাচন করুন
গল্প নয় সত্যি

পরিচালক হয়ে ওঠার গল্প

মোঃ আজিজুর রহমান, পরিচালক, হবখালী ইউডিসি, নড়াইল সদর, নড়াইল । মোবাঃ ০১৯৪৮১৬৪২১৭

           পিতা দরিদ্র ভান চালক, অভাবের সংসারে অজ্ঞতা স্বীকারে আমি ও এক বোনসহ আমরা ৬ ভাই-বোন । বুঝতে শিখে খুব কষ্টের মাঝে সংসার চালাতে দেখেছি । বহুবছর আগে নয় ২০০৭ সালে আমি এস,এস,সি পরিক্ষার্থী ।  পিতার কাছে কলম-খাতা চাইলে কিনে দেয় কিন্তু দিতে দিতে ৬-৭ দিন লেগে যেত । পরের গাইড জোগাড় করে পড়তে হত । নিজে নিজে প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের প্রাইভেট ফি দিতে হত । বাদাম বিক্রি করেছি, আখ বিক্রি করেছি । বাড়ি একজন বন্ধু-বান্ধব নিতে পারতাম না কারণ সে রকম পরিবেশ ছিল না । এস,এস,সি-২০০৭ সালে ব্যবসায় বিভাগ থেকে ঐ সময়ে আমাদের স্কুল থেকে সবচেয়ে ভাল রেজাল্ট করেও ভর্তি হলাম ইউনিয়নের কলেজে । স্বপ্ন ছিল শহরের কলেজে পড়ব কিন্তু আমার পর-পর বেড়ে ওঠা ভাই-বোনগুলোও পড়ালেখা করে যাচ্ছে ফলে আর সম্ভব হল না । কলেজ জীবনে কোচিং ও প্রাইভেট পড়িয়ে সংসারের অন্যান্যদের পড়ালেখার দায়িত্ব নিতে হল । তারপর হঠাৎ করে পরের কাছ থেকে ও বাড়ির থেকে টাকা নিয়ে কম্পিউটার এ্যাণ্ড মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকান দিয়ে বসলাম বাজারে । এইচ,এস,সি-২০০৯ পাশ করলাম । ভর্তি হলাম ডিগ্রিতে । পিতা ভ্যানচালক বিষয়টি খুব কষ্ঠ দিতে লাগল । বোনটিও এস,এস,সি পাস করে কলেজে । গ্রাম্য পরিবেশে তাকে বিয়েতো দিতেই হয় । ভ্যানটি বিক্রি করে দিলাম  । তখন পিতা হয়ে গেল কৃষক । এবার বোনের বিয়ে দিলাম । ভাইও কলেজ শেষ করে ডিগ্রিতে ভর্তি হল । যে কোন ভাবেই ঢুকে পড়লাম ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে । ধীরে ধীরে খুব সুনামের সাথে কাজ করতে লাগলাম । আয় খুবই কম হতো তারপরেও খুব সম্মানের সাথে কাজ করতাম । বয়স হল বাড়ি থেকে বিয়ে দেবে । মেয়ে দেখতে গেলে ছেলে কি করে উত্তর দিলে যখন আবার জিজ্ঞেস করত ছেলের বেতন কত? তখন আর কোন উত্তর দিতে পারতাম না । বেতন না পেলেও পাবলিকরা জানে যে আমি চাকুরী করি । এখন ছোট ভাইয়েরা খাতা-কলম চাওয়ার আগেই রিম রিম খাতা ও ডজন ডজন কলম পেয়ে যায় । বাড়ি সব সময়ই বন্ধু বান্ধব আসা-যাওয়া করে । কারণ বাড়ির পরিবেশ এখন অনেকটাই ভাল, দালান হয়েছে । পিতা নিজস্ব জমি-জমা দেখাশুনা করে (পরবর্তীতে নিজেরা রাখা) । প্রতিদিন হাতখরচ বাবদ ৩০-৪০ টাকা দিতে হয় । এখন তিনি একজন সামাজিক লোক । পরবর্তীতে বিয়ে করলাম । এখন একটা মেয়ের বাপ । মেজো ভাইডি ডিগ্রী ফাইনাল পরীক্ষা দিছে এখন পাসপোর্ট করিয়ে বিদেশ পাঠাব ।  আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভাল দিনগুলি যাচ্ছে । সবাই আমাকে ও আমার পরিবারকে অনেক অনেক ভালবাসে । যে কোন ছোট সমস্যায়ও পড়লে প্রায়ই ছুটে চলে আসে আমার কাছে । যে মেয়েটে প্রেম করতে দ্ধিধাবোধ করত আজ সে বউ না হতে পেরে আফসোস করে-এটার আমার বড় পাওয়া আর এসব সম্ভব হয়েছে আল্লার ইচ্ছায় ইউডিসি পরিচালক হতে পেরে ।

 

ছবি/সংযুক্তি


ক্রম


Share with :

Facebook Twitter